বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২০

প্রথম অধ্যায়– পূর্ব বাংলার আন্দোলন ও জাতীয়তাবাদের উত্থান (১৯৪৭ খ্রি. -১৯৭০ খ্রি.)

Nadim Sir 
01316-903472

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২ রা সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তমুদ্দুন মজলিশ নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে । 




১৯৪৮ সালের ৪ঠা জানুয়ারী শেখ মুজিব, শামসুল হক ও অলি আহাদ সহ উনসত্তর জনকে গ্রেফতার করা হয় পিকেটিং করা অবস্থায় । গ্রেফতার নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকায় ১২-১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয় ।


১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারী পাকিস্তান গনপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজী ভাষার পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবী জানান তার দাবী অগ্রাহ্য হলে ২৬ ও ২৯ ফেব্রুয়ারী ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয় ।




১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্ণর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন ২১ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন “উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা”


১৯৫২ সালের ২৬ জানুয়ারী ঢাকার পল্টনে অনুষ্ঠিত জনসভায় নতুন প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন জিন্নাহর অনুকরণে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা প্রদান করেন । 


৪ ঠা ফেব্রুয়ারী ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত  হয়। ২০ ফেব্রুয়ারী এক ঘোষণায় ২১ ফেব্রুয়ারী ১৪৪ ধারা জারী করা হয় । সকাল ১১ টায় ঢাকা মেডিক্যালের আমতলায় সভায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় ১০ জন করে মিছিল বের করলে পুলিশ লাঠি চার্জ, কাদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং মিছিলে গুলি করলে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত নিহত হয় । ২২ তারিখে শোক র‍্যালী বের করা হলে সেখানেও গুলি করলে শফিউদ্দিন নিহত হয় । 


শহীদ স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ২২ ফেব্রুয়ারী ছাত্র জনতা মেডিক্যাল কলেজের সামনে একটি শহীদ মিনার নির্মান করে ২৩ তারিখে শফিউরের পিতাকে দিয়ে উদ্বোধন করা হয় । ২৪ তারিখ পুলিশ উক্ত শহীদ মিনার ভেঙ্গে ফেলে।



পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । এ নির্বাচনে জনগন যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচিত করে। ২৩৭ টি আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩ টি এবং মুসলিম লিগ মাত্র ৯ টি আসনে জয়লাভ করে।


১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মির্জাকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত ও দেশ ত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল করে । সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে তিনি মৌলিক গণতন্ত্রের নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেন । এ ব্যবস্থায় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচক মন্ডলী গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাদের ভোটেই রাস্ট্রপতি, জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধি রাখা হয়। এটা ছিল পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি ।


১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারী লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলের এক সম্মেলনে যোগদান করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবর রহমান । সেখানে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ব পাকিস্তানের জনগনের অধিকার রক্ষার জন্য ৬ দফা দাবী তুলে ধরেন


পাকিস্তান সরকার ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা ( রাস্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য) দায়ের করে । শাসক গোষ্ঠী এটকে ষঢ়যন্ত্র মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে । এ মামলায় রাজনিতীবিদ, বেসামরিক সরকারী কর্মকর্তা, সামরিক ও প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ সহ মোট ৩৫ জনকে আসামী করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দন্ডবিধির ১২১ ও ১৩১ ধারায় তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানকে সশস্ত্র পন্থায় স্বাধীন ও সর্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করার অভিযোগ আনা হয়। বিচারের উদ্দেশ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ ট্রাইবুনালে ১৯৬৮ সালের ১৯ শে জুন  এই মামলার শুনানী শুরু হয় ।


২৩ ফেব্রুয়ারী ১৯৬৯ রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবর রহমানকে এক সংবর্ধনা দেয়া হয়।  সেখানে তাকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধীতে ভূষিত করা হয়।


১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করে। ইয়াহিয়া খান উক্ত পদে আসীন হন। তিনি ২৮ মার্চ এক ঘোষনায় পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর পাকিস্তানে প্রথমবারের মত এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে সাধারন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় । 

1 টি মন্তব্য: